| |

কি হচ্ছে উত্তরায়,উন্নয়নের নামে বৃক্ষ নিধন নয়তো..?

 মাহফুজুল আলম খোকনঃ
রাজধানীর উত্তরায় ধ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে নগর উন্নয়নের কাজ। প্রশস্ত রাস্তা, উন্নত ফুটপাত ও ড্রেন নির্মানের নামে নির্বিচারে চলছে বৃক্ষ নিধন। উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে মডেল টাউন থেকে নির্বিচারে সবুজ বৃক্ষ নিধন হচ্ছেবলেও অভিযোগ উঠেছে। বষিয়টি ভালো ভাবে নিচ্ছেন না সুশিল সমাজ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন এটি উন্নয়নের নামে বৃক্ষ নিধন নয়তো..?

গুলশান বনানীর পর রাজধানীর অন্যতম মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তুলাহয় উত্তরাকে। গুলশান বনানী এলাকাটি ঘনবসতি পুন্ন হয়ে যাওয়ায় একটু স্বস্থির নিশ্বাস নিতে উত্তরা মুখি হন সৌখিন মানুষের দল। নানা রকম ফলজ ঔষধি ও বনজ বৃক্ষের ছায়াভরা মনোরম নির্মল পরিবেশ’ই ছিল এখানে আসার এক মাত্র আকর্ষন। কালের বিবর্তনে আধুনিকায়নের গ্যরাকলে বিলিন হয়ে যাচ্ছে চিরচেনা সেই সবুজ বৃক্ষ গুলি।

এযাবত উত্তরায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের অধিক সবুজ গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকা বাসির। এর মধ্যে উদ্দেশ্য মুলক ভাবে অনেক গাছ কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশস্ত রাস্তা,উন্নত ফুটপাত, আধুনিক ড্রেনের জন্যই কাটা হয়েছে এসব গাছ,বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েক দিনে উত্তরার ১.৩.৭.৮ ও ৬ নং সেক্টরে কর্তন করাহয় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় হাজার খানিক ফলজ, বনজ ও শান্ত সবুজ কাঠ গাছ। উত্তরা ১ নং সেক্টরস্থ উত্তরা ক্লাবের সামনের সড়কটিতেই সবচেয়ে বড় বড় গাছ গুলো কাটা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখাগেছে,১ নং সেক্টরের উত্তরা ক্লাবের সামনের রাস্তাটিতে পরিত্যাক্ত অনেক গুলো গাছ পওে থাকতে দেখা যায়।

৩ নং সেক্টরের ৫ নং সড়কে সারিবদ্ধ ভাবে কর্তন করা হয়েছে ছোট বড় প্রায় ১৫ টি ফলজ ও বনজ বৃক্ষ। ৪ নং সড়কে কর্তন করা হয়েছে প্রায় ত্রিশটিরও বেশী গাছ। ৭ নং সেক্টরের ১৩ ও ১৩/সি নং সড়কে কাটা হয়েছে ২০ টি বড় গাছ। ১৮ নং সড়কেও কাটা হয়েছে আনুমানিক অর্ধশত সবুজ গাছ।

৮ নং সেক্টরের সিআইডি কলোনি সড়কটিতে পঞ্চাশ বছরের পুরোনো বিশাল আকারের অনেক গুলি গাছ সহ অর্ধশত ছোট গাছ কর্তন করা হয়েছে। ৬ নং সেক্টরের সিটি কর্পোরেশন/ নগর ভবনের সামনের সড়ক টিতেও কাটা হয়েছে অনেক গুলো গাছ। সবুজ বৃক্ষ নিধন করে, যে উন্নয়ন করতে চাইছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ভবিশ্যত নিয়ে ভাবছেন সাধারন মানুষ।

এই বিষয়ে কথা হয় ১ নং সেক্টর ৮ নং সড়ক এলাকার বাসিন্ধা মো.আনোয়ার হোসেন মজুম দারের সাথে, তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষা ও অকসিজেন উতপাদনে সবুজ গাছ পালার প্রয়োজনিয়তা অপরিসিম। সরকার যেখানে একটি গাছ কাটলে দুইটি চারা রুপন করতে বলছেন,সেখানে বনায়নের তেমন কিছু চোখে না পরলেও নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে গাছ পালা। যেখানে ড্রেন রয়েছে সেখানে গাছ কেটে নতুন ড্রেন না করে পুরাতন ড্রেনের পরিচর্যা করলেই হতো। এভাবে গাছ পালা কাটা হলে অদুর ভবিশ্যতে প্রতিকুল পরিস্থিতির সময় আমাদেরকে এর চরম মুল্য দিতে হবে।

এই বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশন উত্তরা ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজ্বী আফসার উদ্দিন খান জানান,নগর বাসির নাগরিক সুবিধা বাড়াতে প্রশস্ত রাস্তা করার জন্য কিছু গাছ কর্তন করা হয়েছে। ফুটপাতের কোন গাছ কাটা হয়নি। বিনা প্রয়োজনে কোন গাছ কাটা হলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়ে তদারকির জন্য আমাদের টিম রয়েছে,আমি নিজেও সরেজমিনে নিয়মিত পরিদর্শন করি। ভবিশ্যত নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তাকরেই আমাদের এই উদ্যেগ।