| |

রাজশাহীতে সুইসাইডাল ভেস্ট ও বোমাসহ ৩ জঙ্গি আটক

জেলা প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার ডাঙাপাড়া গ্রামে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার গভীর রাতে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, ৫ রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- ইব্রাহিম হোসেন (২৬), ইসরাফিল হোসেন (২৪) ও রবিউল ইসলাম (২৫)। এদের মধ্যে ইব্রাহিম ও ইসরাফিল সহোদর এবং রবিউল তাদের ছোট বোন হাওয়া খাতুনের (২১) স্বামী। ইব্রাহিমের বাবা রমজান আলী উপজেলার গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুমিত চৌধুরী জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ ইব্রাহিমের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এ সময় ওই বাড়ি থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে বলা হয়। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বাড়ি থেকে তিনজন বের হয়ে আসেন। পরে বাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

সুমিত চৌধুরী আরো জানান, ওই বাড়িতে একটি শক্তিশালী বোমাসহ কিছু বিস্ফোরকদ্রব্য রয়েছে। বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বোমা নিষ্ক্রিয় টিম আসার পর ওই বোমাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হবে। ইব্রাহিম, ইসরাফিল ও রবিউল জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তাদের তানোর থানায় নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ চলছে।

এদিকে, সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে চার শিশু ও তিন নারীসহ নয়জনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরা হলেন, ইব্রাহিম ও ইসরাফিলের বাবা রমজান আলী, মা আয়েশা বেগম, রমজান আলীর মেয়ে হাওয়া খাতুন, ইব্রাহীমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, ইসরাফিলের স্ত্রী হারেছা খাতুন। আর শিশুদের মধ্যে হাওয়া খাতুনের এক মেয়ে ও মর্জিনা খাতুনের তিন মেয়ে। তাদের বয়স এক মাস থেকে ৯ বছর পর্যন্ত।

সবাইকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে সকালে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। তবে ওই বাড়িতে আর কিছু পাওয়া যায়নি।

পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মুঞ্জুরুল ইসলাম মুঞ্জু জানান, ১০-১২ বছর ধরে রমজান আলীর পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদের নামাজ পড়তো। চলতি রমজান মাসেও তারা সৌদি আবরের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে। গত বছর রমজান আলী ও তার স্ত্রী আয়শা বেগম হজ্ব করেছেন।

মুঞ্জু আরো জানান, ইব্রাহিম ও ইসরাফিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। বর্তমানে ইব্রাহিম বাড়িতে সার কীটনাশকের দোকান দিয়ে ব্যবসা দেখাশোনা করে। আর ইসরাফিল জমি চাষাবাদ করে। আর তাদের ভগ্নিপতি রবিউলের বাড়ি পাশের গ্রামের চকপাড়ায়। রবিউল কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে। রবিউল শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন।