| |

গুলশানের বাড়ি ফিরে পেতে মওদুদের রিটের শুনানি মুলতবি

স্টাফ রিপোর্টার:
গুলশানের বাড়ি ফিরে পেতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের করা রিট আবেদনের শুনানি ২ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐ আবেদনের ওপর শুনানি শুরুর পর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে এই আদেশ দেয়।
নোটিশ ছাড়াই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সকালে ঐ রিট আবেদন করেন মওদুদ। সেইসঙ্গে গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে ঐ বাড়ির নকশায় কোনো ধরনের পরিবর্তন না করা এবং পজেশন ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ২টি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও চেয়েছেন তিনি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে। মওদুদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ ৪ দশক ধরে গুলশানের ঐ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। আইনি লড়াইয়ে তিনি হেরে যাওয়ায় গত বুধবার তার মালপত্র সরিয়ে দিয়ে ঐ বাড়ির দখল বুঝে নেয় রাজউক।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ দাবি করেন, আদালত ঐ বাড়ি রাজউককে দেয়নি। তিনি বিরোধীদলের রাজনীতি করেন বলেই এভাবে বিনা নোটিশে তাকে বাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, এটা তো আমাদের সম্পত্তি। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটা কি উনার সম্পত্তি? নোটিশ দেব কেন?

রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, ১ বিঘা ১৩ কাঠা ১৪ ছটাক জমির ওপর ঐ বাড়ি। গুলশানের ঐ এলাকায় প্রতি কাঠা জমির দাম মোটামুটি ১০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে পুরো সম্পত্তির দাম ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

জানা যায়, ঐ বাড়ির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে তিনি ঐ বাড়ির মালিকানা পান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। ঐ বছরই মওদুদ ঐ বাড়ির দখল নেন। কিন্তু ইনজে মারিয়া প্লাজের মৃত্যুর পর ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ঐ বাড়ির দখল নেয়া হয়েছে অভিযোগ এনে দুদক মামলা করলে ৪ বছর আগে শুরু হয় আইনি লড়াই।

মওদুদ সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গেলেও রায় তার বিপক্ষে যায়। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও গত রোববার তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে মওদুদের বাড়ি ছাড়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।

বস্তিবাসীর জন্য ১০ হাজার

জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের উপস্থাপনা দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার। প্রধানমন্ত্রী উপস্থাপনা দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম।

প্রেস সচিব জানান, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম নদীভাঙা ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনের জন্য মিরপুরের ভাসানটেকে প্রকল্প নিয়েছিলেন। এরপর জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬ এ মধ্যম ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য মিরপুর হাউজিং স্টেটে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়; যা বাস্তবায়ন করবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ছোট আকারের ফ্ল্যাটগুলোতে দুটি বেডরুম ও ড্রয়িং রুম থাকবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে লিফট সুবিধা। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠসহ অন্যান্য সুবিধাও থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ‘তালাইমারী চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের খসড়া নকশাসহ সার্বিক বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। প্রেস সচিব জানান, বঙ্গবন্ধু চত্বর হবে ৬১ কাঠার ওপর। চত্বরে কি কি থাকবে তার উপস্থাপনা তুলে ধরেন স্থপতি রফিক আজম। বঙ্গবন্ধু চত্বরে থাকবে একটি স্থায়ী ও একটি অস্থায়ী গ্যালারি। ইন্টারেকটিভ ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গবেষণা, মাল্টিপারপাস হল, অ্যাম্ফিথিয়েটার। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের প্রদর্শনীও থাকবে এখানে।