| |

গাজীপুরে লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিঃ এর প্রতারনার মহাফাঁদ

তুহিন সারোয়ার ঃ ,এল,এম.বা ডিরেক্ট সেলস ব্যাবসা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে গাজীপুরে। আর এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। অত্যন্ত লোভনীয়, অকল্পনীয়, অফার আর অল্পদিনে কোটি পতি হবার স্বপ্ন নিয়ে ঝুঁকছে দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক।গাজীপুরের ভোগড়া চান্দনা-চৌরাস্তার শহীদ হুরমত আলী ভবনে ‘অবস্থিত লাইফওয়ে বাংলাদেশ লিঃ নামের একটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি অনুমোদন ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এই কোম্পানির নানা আর্থিক লাভ ও কমিশনের আশ্বাসে সাধারণ মানুষ গ্রাহক, পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে।স্বল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে লাইফওয়ে বাংলাদেশ লিঃ বিপুলসংখ্যক মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্যন্ত লোভনীয়, অকল্পনীয় অফার আর অল্পদিনে কোটি পতি হবার স্বপ্ন নিয়ে ঝুঁকছে গাজীপুরসহ দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক। আলাদীনের যাদুর প্রদীপ এর মত রাতারাতি কোটিপতি হতে অফিসটির সামনে শত শত লোকের ভিড়, যারা কিনা প্রাথমিক শিক্ষায় ও শিক্ষিত না, অর্থাৎ অধিকাংশ লোক গ্রাম থেকে কারো মাধ্যমে এসেছে আর নয়তো চা দোকানদার, ফুুটপাতের দোকানদার, রিক্সা চালক ও ভ্যান গাড়ী চালক এরা সবাই অফিসিয়াল পোশাক পড়ে দাড়িয়ে থাকে। দেশের কোথাও লাইসেন্স ছাড়া এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন গ্রাহক তৈরি নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না লাইফওয়ে বাংলাদেশ লিঃ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। এ কোম্পানি কৌশলে নতুন গ্রাহক তৈরি, পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।গাজীপুরে এসকল কোম্পানীর প্রকোপের কারণে অনেকে খুব নির্মমভাবে প্রতারিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে বিদেশে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও উঠছে এদের বির”দ্ধে। (সুত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ- ২৫ ও ২৬ জানুয়ারী) অফিসের সামনে দাড়ানো নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার সোহেল রানা কে প্রশ্ন করা হয় এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে বাটারফ্লাই কোম্পানীতে চাকুরী নাম করে এবং মাসে ১৫০০০-২০০০০/ টাকা বেতন দিবে বলে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে বলে। তারপর তারা আমাকে ৫০০০০/ হাজার টাকার বিপরীতে একটি ২৪ ইন্চি কালার এলইডি টিভি ধরিয়ে দেয়। এখন আমাকে চাকুরী না দিয়ে আরও আমার মত এরকম কাস্টমার সংগ্রহ করতে বলে,অন্যথায় আমি কোন বেতন পাবনা। নওগা জেলার নজরল ইসলাম জানান,তিনি গার্মেন্টস কর্মী। ৩ মাস আগে তিনি ৫০,০০০ টাকা দিয়ে এ ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন।এখন পযর্ন্ত কোন ইনকাম করতে পারেননি। প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাহকদের নিয়ে এসে এ কার্যালয়ে প্রতিদিন ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। আর এভাবেই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষদের বোকা বানিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন,আমাদের দেশের এম এল এম ব্যাবসা যেই ভাবে এগুচ্ছে তাতে করে এর ভয়াবহতা আমরা ইতি মধ্যেই টের পেয়েছি।এ রকম তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো অনেক মানুষ ভুলতে পারেনি, যেমন ‘আইটিসিএল’ ‘যুবক’ও ডেসটিনি গ্রুুপের এমএলএম কার্যক্রম আরও বেশিসংখ্যক মানুষের বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাট করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে দেশের কোথাও লাইসেন্স ছাড়া এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন গ্রাহক তৈরি নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না লাইফওয়ে নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। এ কোম্পানি কৌশলে নতুন গ্রাহক তৈরি, পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এম,এল,এম, ব্যবসার প্রধান শর্ত নিজস্ব কারখানায় নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য থাকতে হবে অফিসে গিয়ে দেখা গেল সম্পূর্ন ভিন্ন! নিজস্ব কারখানায় নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য দুরের কথা ,অতি নি¤œমানের এম,জি নামক নন ব্র্যান্ডের টিলিভিশন চায়না থেকে আমদানি করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। লাইফওয়ে বাংলাদেশ লিঃ ব্যাবসার সরকারী অনুমোদন আছে কিনা তা জানতে চাইলে এজেন্সির এ্যাসিস্ট্যোন্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আল-আমিন মিয়াজী জানান, লাইসেন্স আবেদন বাতিল হওয়ার পর তারা সরকারের কাছে আপিল করেছেন। এই বছরের —- এপ্রিল তাদের লাইসেন্স আবেদনের আপিল শুনানি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আপনাদের সাইনবোর্ড এ রেজিঃ নং- সি- ৮২৮৮৬/২০১০ লিখা রয়েছে এটা কিসের রেজিঃ নং ? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এটা আসলে কিসের রেজিঃ নং সেটা আমি জানিনা সেটা ব্রান্চ ম্যানেজার মুকুল গাজী বলতে পারবেন। কিভাবে ব্যাবসা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চালাচ্ছি।
এব্যাপারে রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট কোম্পানিজ ও ফার্মেসর নিবন্ধক বিজন কুমার বৈশ্য জানান, ৬০ দিন তদন্ত করে ১৭টি লাইসেন্স আবেদন বাতিল করেছে। রেজসকোর কাছে লাইসেন্সের জন্য মোট ২১টি আবেদন জমা পড়ে। চারটিকে লাইসেন্স দেওয়া হলেও বাকি ১৭টি পায়নি। পরে বাণিজ